ADS

অনলাইনে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম

 

অনলাইনে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম

বর্তমানে বাংলাদেশে পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আধুনিক করা হয়েছে। এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের (E-Passport) জন্য আবেদন করা যায়। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কীভাবে কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই আপনি নিজে নিজেই একটি নতুন পাসপোর্টের জন্য সঠিক নিয়মে আবেদন করবেন।

নতুন পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC)। (বয়স ১৮ বা তার বেশি হলে NID বাধ্যতামূলক)।

  • স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে ইউটিলিটি বিলের কপি (গ্যাস/বিদ্যুৎ/পানি বিল)।

  • পূর্বে কোনো পাসপোর্ট (যেমন: এমআরপি) থাকলে সেটির মূল কপি ও ফটোকপি।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC বা GO


অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি

প্রথমে ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর "Apply Online" অপশনে ক্লিক করে আপনার জেলা এবং নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিস সিলেক্ট করুন। আপনার সচল ইমেইল আইডি এবং একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টটি সাকসেসফুলি রেজিস্টার করে নিন।

ধাপ ২: পার্সোনাল ও অ্যাড্রেস তথ্য পূরণ

অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

  • নাম ও জন্মতারিখ: এগুলো যেন হুবহু আপনার NID-এর সাথে মেলে।

  • ঠিকানা: বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে দিন।

  • পেশা ও বৈবাহিক অবস্থা: আপনার বর্তমান পেশা এবং বৈবাহিক অবস্থা সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৩: পাসপোর্টের ধরন ও মেয়াদ নির্বাচন

আপনাকে দুটি অপশন বেছে নিতে হবে:

  • পাতার সংখ্যা: ৪৮ পাতা নাকি ৬৪ পাতা।

  • মেয়াদ: ৫ বছর মেয়াদি নাকি ১০ বছর মেয়াদি (১৮ বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য কেবল ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হয়)।

ধাপ ৪: পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া

আবেদন ফর্মটি ফাইনাল সাবমিট করার পর একটি Application Summary পাবেন। এরপর আপনাকে সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে। আপনি চাইলে এ-চালান (A-Challan)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই বিকাশ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংকের কার্ড দিয়ে অনলাইনে ফি জমা দিতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকে গিয়েও টাকা জমা দেওয়া যায়।

ধাপ ৫: অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া

ফি জমা দেওয়ার পর অনলাইন থেকে আবেদনের মূল ফর্ম এবং এ-চালানের কপি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন। এরপর সুবিধাজনক একটি তারিখে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল বুক করুন।

নির্দিষ্ট দিনে প্রিন্ট করা ফর্ম, ফি জমার রশিদ, NID/জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি এবং ছবি তোলার জন্য উপযুক্ত পোশাক পরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হোন। সেখানে আপনার আঙুলের ছাপ (Biometric), চোখের আইরিশ এবং ছবি নেওয়া হবে।


ই-পাসপোর্ট ফি এবং ডেলিভারির সময় (৪৮ পাতা, ১০ বছর মেয়াদ)

ডেলিভারির ধরনের ওপর ভিত্তি করে পাসপোর্টের ফি ভিন্ন হয়ে থাকে:

ডেলিভারির ধরন

সময়সীমা

সরকারি ফি (ভ্যাটসহ)

রেগুলার (Regular)

১৫ থেকে ২১ কর্মদিবস

৫,৭৫০ টাকা

এক্সপ্রেস (Express)

৭ থেকে ১০ কর্মদিবস

৮,০৫০ টাকা

সুপার এক্সপ্রেস (Super Express)

২ কর্মদিবস

১০,৩৫০ টাকা


কিছু জরুরি টিপস:

১. ফরমে কোনো বানান ভুল হলে সাবমিট করার আগে ভালো করে চেক করে নিন। কারণ সাবমিট হয়ে গেলে সেটি সংশোধন করা বেশ জটিল।

2. পাসপোর্ট অফিসে ছবি তোলার দিন সাদা বা হালকা রঙের পোশাক না পরাই ভালো, এতে ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ছবি ম্যাচ করতে সমস্যা হতে পারে।

আশা করি এই গাইডলাইনটি আপনাদের নতুন পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন!


Next Post Previous Post