নতুন ভোটার নিবন্ধন বা এনআইডি (NID) কার্ড করার নিয়ম
বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে নতুন ভোটার হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। এখন আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে নতুন ভোটারের আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।
📌 নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (চেকলিস্ট)
অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলোর স্পষ্ট ছবি বা স্ক্যান কপি গুছিয়ে হাতের কাছে রাখুন:
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ: ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি (বাধ্যতামূলক)।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: SSC/HSC বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট (যদি থাকে, এটি বয়স ও নামের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে)।
ঠিকানার প্রমাণপত্র: বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানি বিলের কপি অথবা চৌকিদারী ট্যাক্সের রসিদ।
পিতা-মাতার এনআইডি: পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর ও ফটোকপি।
রক্তের গ্রুপের সার্টিফিকেট: রেজিস্টার্ড ল্যাব থেকে প্রাপ্ত ব্লাড গ্রুপ টেস্ট রিপোর্ট।
নাগরিকত্ব সনদ: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট।
অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
ধাপ ১: নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন
প্রথমেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল এনআইডি পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করুন। সেখানে "আবেদন করুন" বা "Register" অপশনে ক্লিক করে আপনার পুরো নাম (ইংরেজিতে), জন্মতারিখ এবং স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে দিয়ে মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা পূরণ
অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর "প্রোফাইল" অপশনে গিয়ে আপনার সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে পূরণ করতে হবে।
আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম এবং জন্মতারিখ যেন হুবহু আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সাথে মেলে।
আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ভোটার এলাকা) সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৩: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য প্রদান
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, রক্তের গ্রুপ এবং পিতা-মাতার এনআইডি নম্বর নির্দিষ্ট বক্সে ইনপুট দিন। সব তথ্য দেওয়া শেষ হলে পরবর্তী (Next) ধাপে যান।
ধাপ ৪: কাগজপত্র আপলোড ও ফরম ডাউনলোড
এই ধাপে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলোর (ধাপ ১-এ বলা চেকলিস্ট অনুযায়ী) স্পষ্ট ছবি বা পিডিএফ ফাইল আপলোড করুন। সবশেষে আপনার আবেদনটি ডাবল চেক করে Submit বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন সফল হলে একটি Application Form (ফরম-২) ডাউনলোড করার অপশন পাবেন। ফরমটি প্রিন্ট করে নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দিন।
ধাপ ৫: ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometric) দেওয়া
আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করার পর, সেটির সাথে আপনার মূল কাগজপত্রগুলো নিয়ে আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন এবং আপনার ছবি, চোখের আইরিশ এবং ১০ আঙুলের ছাপ (Biometric) গ্রহণ করবেন।
💰 নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফি এবং সময়সীমা
⚠️ বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রথমবার নতুন ভোটার হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার কোনো ফি নেয় না। কেউ যদি নতুন ভোটার করে দেওয়ার নামে টাকা দাবি করে, তবে বুঝবেন সে প্রতারক বা দালাল।
NID Site Link: https://www.nidw.gov.bd/
%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%20%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE.jpeg)